ক্রিকেট এক অনন্য খেলা, আর এর বলটিও তেমনি বিশেষ। কর্ক, সুতা আর চামড়া দিয়ে তৈরি ক্রিকেট বল অবাক করার মতো শক্ত ও ভারী। এই লেখায় জেনে নিন ক্রিকেট বলের ওজন কত এবং বল নিয়ে জরুরি সব নিয়ম।
ক্রিকেট বলের ওজন কত?
পুরুষদের ক্রিকেটে ব্যবহৃত বলের ওজন হতে হয় ১৫৫.৯ গ্রাম (৫.৫ আউন্স) থেকে ১৬৩ গ্রাম (৫.৭৫ আউন্স)-এর মধ্যে।
বলের ভেতরে থাকে কর্কের কোর, তার ওপর সুতা পেঁচানো হয়, আর একদম ওপরে সেলাই করা হয় চামড়ার আবরণ। এই আবরণ তৈরি হয় চামড়ার চারটি টুকরো দিয়ে, যেগুলোর আকার চার ভাগে কাটা কমলার খোসার মতো। বলের মাঝখানে সুতা দিয়ে ছয় সারি সেলাই করে তৈরি হয় এর পরিচিত সিম।
ক্রিকেট বল বেসবলের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত ও ভারী, আর এটি তিন রঙের হয়: লাল, সাদা ও গোলাপি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মূলত তিনটি প্রতিষ্ঠানের বল ব্যবহৃত হয়: কোকাবুরা, ডিউকস ও এসজি। ভারতে ঘরের টেস্টে এসজি বল, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে ডিউকস এবং বাকি বেশির ভাগ দেশে কোকাবুরা বল ব্যবহার করা হয়।
ক্রিকেট বলের ওজন ও আকারের নিয়ম
বলের ওজন ও আকার নির্ভর করে ম্যাচটি পুরুষ, নারী নাকি জুনিয়র ক্রিকেটের, তার ওপর।
| বিভাগ | ওজন | পরিধি |
|---|---|---|
| পুরুষ ক্রিকেট | ১৫৫.৯ থেকে ১৬৩ গ্রাম (৫.৫ থেকে ৫.৭৫ আউন্স) | ২২.৪ থেকে ২২.৯ সেমি |
| নারী ক্রিকেট | ১৪০ থেকে ১৫১ গ্রাম (৪.৯৪ থেকে ৫.৩১ আউন্স) | ২১.০ থেকে ২২.৫ সেমি |
| জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-১৩) | ১৩৩ থেকে ১৪৪ গ্রাম (৪.৬৯ থেকে ৫.০৮ আউন্স) | ২০.৫ থেকে ২২.০ সেমি |
ভিন্ন ফরম্যাটে ভিন্ন বল
ফরম্যাট বদলালে বলের ওজন বদলায় না, তবে বলের রং ও ধরন বদলে যায়।
লাল বল: টেস্ট ক্রিকেট
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম এসেছিল লাল বলই। টেস্ট ম্যাচ ও বেশির ভাগ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ লাল বলে খেলা হয়। একসময় ওয়ানডেও লাল বলে খেলা হতো, কিন্তু বিশ শতকের শেষ দিকে সব আন্তর্জাতিক ওয়ানডের জন্য সাদা বল স্বীকৃতি পায়।
সাদা বল: ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি
ফ্লাডলাইটের নিচে রাতের ম্যাচের জন্য সাদা বল আনা হয়, কারণ রাতে এটি অনেক পরিষ্কার দেখা যায়। এখন দিনের ম্যাচ হলেও সব পেশাদার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সাদা বলে খেলা হয়। ইনিংসের শুরুতে সাদা বল লাল বলের চেয়ে বেশি সুইং করে এবং দ্রুত নষ্টও হয়। নির্মাতাদের মতে দুটি বল একই পদ্ধতি ও উপকরণে তৈরি হয়, পার্থক্য শুধু চামড়ার রঙে, তাই ওজন হুবহু একই থাকে।
সাদা বল দ্রুত ময়লা ও ফ্যাকাশে হয়ে যায়, ফলে ৩০-৪০ ওভারের পর ব্যাটারের পক্ষে বল দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে ওয়ানডের প্রতিটি ইনিংসে দুই প্রান্ত থেকে দুটি নতুন বল ব্যবহার শুরু হয়। ২০২৫ সালে আইসিসি এই নিয়ম বদলায়: এখন ইনিংসের ৩৪ ওভার পর্যন্ত দুটি বল চলে, তারপর বোলিং দল এর মধ্যে একটি বল বেছে নিয়ে বাকি ইনিংস সেটি দিয়েই খেলে।
গোলাপি বল: দিবা-রাত্রির টেস্ট
টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ রাতেও খেলার জন্য ২০০০-এর দশকে গোলাপি বল তৈরি করা হয়। রাতে লাল বল ঠিকমতো দেখা যায় না, আবার সাদা বল ৮০ ওভার টেকে না এবং সাদা পোশাকের সঙ্গে মিশে যায়। গোলাপি বল এই দুই সমস্যার মাঝামাঝি সমাধান। এর চামড়া লাল বলের চেয়ে গাঢ়ভাবে রাঙানো হয়, যাতে ক্ষয় হওয়ার পরও রং টিকে থাকে।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলাপি বল প্রথম ব্যবহার হয় ২০০৯ সালের জুলাইয়ে, ওয়ার্মসলিতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার নারী ওয়ানডেতে। প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলা হয় ২০১৫ সালের নভেম্বরে, অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে। বাংলাদেশ প্রথমবার গোলাপি বলে টেস্ট খেলে ২০১৯ সালের নভেম্বরে, কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ভারতের বিপক্ষে; সেটি ছিল ভারতেরও প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট।
ইংরেজিতে পড়ুন: Cricket ball weight