আইসিসি-র পূর্ণরূপ কী?
ICC-র পূর্ণরূপ হলো International Cricket Council (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল)। বাংলায় একে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বলা হয়। সারা বিশ্বে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই আইসিসি।
১৯০৯ সালে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিরা Imperial Cricket Conference নামে সংস্থাটি গড়ে তোলেন। ১৯৬৫ সালে নাম বদলে হয় International Cricket Conference, আর ১৯৮৭ সালে আসে বর্তমান নাম International Cricket Council। আইসিসি-র সদর দপ্তর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে।
সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মিলে আইসিসি ক্রিকেটকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্লেয়িং কন্ডিশনস, ডিআরএস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম), আচরণবিধি ও অন্যান্য নিয়মকানুন আইসিসি-ই ঠিক করে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিও নিয়োগ দেয় তারা। দুর্নীতি ও ম্যাচ পাতানো ঠেকাতে আইসিসি-র নিজস্ব অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (ACU) রয়েছে।
আইসিসি কি ক্রিকেটের আইন তৈরি করে?
না। ক্রিকেটের মূল আইন (Laws of Cricket) আইসিসি তৈরি করে না। ১৭৮৮ সালে লন্ডনের মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (MCC) এই আইন লিখেছিল, আর আজও এমসিসি-ই এর দেখভাল করে। আইসিসি সেই আইনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্লেয়িং কন্ডিশনস ঠিক করে এবং খেলার পরিচালনা ও প্রসারে মনোযোগ দেয়।
আইসিসি-র সদস্য দেশ
আইসিসি-র সদস্য ১০০-র বেশি: ১২টি পূর্ণ সদস্য (ফুল মেম্বার), বাকি সবাই সহযোগী সদস্য (অ্যাসোসিয়েট মেম্বার)। প্রতি বছরের বার্ষিক সভায় নতুন দেশ যুক্ত হয়, আবার কারও সদস্যপদ স্থগিতও হতে পারে, তাই সঠিক সংখ্যা মাঝে মাঝে বদলায়।
পূর্ণ সদস্য: এই ১২টি দেশের আইসিসি-তে পূর্ণ ভোটাধিকার আছে এবং তারা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারে।
| দল | অঞ্চল | পূর্ণ সদস্য হয় |
|---|---|---|
| ইংল্যান্ড | ইউরোপ | ১৯০৯ |
| অস্ট্রেলিয়া | পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক | ১৯০৯ |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | আফ্রিকা | ১৯০৯ |
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ | আমেরিকা | ১৯২৬ |
| নিউজিল্যান্ড | পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক | ১৯২৬ |
| ভারত | এশিয়া | ১৯২৬ |
| পাকিস্তান | এশিয়া | ১৯৫২ |
| শ্রীলঙ্কা | এশিয়া | ১৯৮১ |
| জিম্বাবুয়ে | আফ্রিকা | ১৯৯২ |
| বাংলাদেশ | এশিয়া | ২০০০ |
| আয়ারল্যান্ড | ইউরোপ | ২০১৭ |
| আফগানিস্তান | এশিয়া | ২০১৭ |
বাংলাদেশ ২০০০ সালের ২৬ জুন আইসিসি-র দশম পূর্ণ সদস্য হয় এবং সে বছরের নভেম্বরে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম টেস্ট খেলে।
সহযোগী সদস্য: যেসব দেশে সংগঠিতভাবে ক্রিকেট খেলা হয় কিন্তু এখনো পূর্ণ সদস্যপদ মেলেনি, যেমন স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও নামিবিয়া।
আইসিসি-র বড় টুর্নামেন্ট
| পুরুষ ক্রিকেট | নারী ক্রিকেট |
|---|---|
| আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ (ওয়ানডে) | আইসিসি নারী বিশ্বকাপ (ওয়ানডে) |
| আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ | আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ |
| আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি | আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (টি-টোয়েন্টি) |
| আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ | আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ |
| আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ |
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইসিসি সাফল্য ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়, যেখানে ফাইনালে তারা ভারতকে হারিয়েছিল। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ (ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে) এবং ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেরও আয়োজক ছিল বাংলাদেশ।
আইসিসি-র আয় কোথা থেকে আসে?
আইসিসি-র আয়ের মূল উৎস তার বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলো। বেশির ভাগ আয় আসে টিভি ও ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব এবং স্পনসরশিপ থেকে। আইসিসি-র জন্য সবচেয়ে লাভজনক আসর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এই আয়ের বড় অংশ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ (টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি) থেকে আইসিসি সরাসরি কোনো আয় করে না; সেই আয় পায় খেলায় অংশ নেওয়া বোর্ডগুলো। এ কারণেই আইসিসি চেষ্টা করে প্রায় প্রতি বছর কোনো না কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে।
আইসিসি অ্যাওয়ার্ডস
প্রতি বছর আইসিসি পুরুষ ও নারী ক্রিকেটে আগের ১২ মাসের সেরা পারফরম্যান্সের জন্য খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করে। আইসিসি অ্যাওয়ার্ডস শুরু হয় ২০০৪ সালে। পুরুষদের মধ্যে দেওয়া হয় বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার, বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার, বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার এবং সবচেয়ে বড় সম্মান স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি (আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটার)। নারীদের মধ্যে দেওয়া হয় ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি এবং রাচেল হেহো-ফ্লিন্ট ট্রফি (আইসিসি বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার)।
আইসিসি-র বর্তমান কর্মকর্তা
| পদ | নাম |
|---|---|
| চেয়ারম্যান | জয় শাহ (ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে) |
| ডেপুটি চেয়ারম্যান | তাভেঙ্গওয়া মুকুহলানি (সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে) |
| প্রধান নির্বাহী (CEO) | সঞ্জোগ গুপ্ত (জুলাই ২০২৫ থেকে) |
তথ্য হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬।
ইংরেজিতে পড়ুন: ICC Full Form