শচীন টেন্ডুলকারের নাম শুনলেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে পড়ে তাঁর সেঞ্চুরিগুলোর কথা। ১৯৮৯ থেকে ২০১৩, ২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ১০০টি সেঞ্চুরি করেছেন, যা আজও এক অনন্য রেকর্ড। এই লেখায় থাকছে শচীনের সব টেস্ট ও ওয়ানডে সেঞ্চুরির পূর্ণ তালিকা, তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় ইনিংস এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর সেঞ্চুরিগুলো।
শচীন টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি: টেস্ট ও ওয়ানডে
শচীন টেন্ডুলকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ১০০টি সেঞ্চুরি করেছেন: টেস্টে ৫১টি ও ওয়ানডেতে ৪৯টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটার তিনিই। ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি গোয়ালিয়রে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ২০০ রান করে তিনি ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করা প্রথম পুরুষ ক্রিকেটার হন।
ওয়ানডেতে তাঁর ৪৯ সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙেন বিরাট কোহলি, ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ৫০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে। তবে টেস্টে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি (৫১) ও সবচেয়ে বেশি রানের (১৫,৯২১) রেকর্ড এখনও শচীনের। ভারতের হয়ে তিনি মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, তাই এই সংস্করণে তাঁর কোনো সেঞ্চুরি নেই।
শচীন টেন্ডুলকারের টেস্ট সেঞ্চুরির তালিকা
| ক্রম | রান | প্রতিপক্ষ | মাঠ | তারিখ |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ১১৯* | ইংল্যান্ড | ম্যানচেস্টার | ৯ আগস্ট ১৯৯০ |
| ২ | ১৪৮* | অস্ট্রেলিয়া | সিডনি | ২ জানুয়ারি ১৯৯২ |
| ৩ | ১১৪ | অস্ট্রেলিয়া | পার্থ | ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ |
| ৪ | ১১১ | দক্ষিণ আফ্রিকা | জোহানেসবার্গ | ২৬ নভেম্বর ১৯৯২ |
| ৫ | ১৬৫ | ইংল্যান্ড | চেন্নাই | ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ |
| ৬ | ১০৪* | শ্রীলঙ্কা | কলম্বো (এসএসসি) | ২৭ জুলাই ১৯৯৩ |
| ৭ | ১৪২ | শ্রীলঙ্কা | লখনউ | ১৮ জানুয়ারি ১৯৯৪ |
| ৮ | ১৭৯ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | নাগপুর | ১ ডিসেম্বর ১৯৯৪ |
| ৯ | ১২২ | ইংল্যান্ড | বার্মিংহাম | ৬ জুন ১৯৯৬ |
| ১০ | ১৭৭ | ইংল্যান্ড | নটিংহাম | ৪ জুলাই ১৯৯৬ |
| ১১ | ১৬৯ | দক্ষিণ আফ্রিকা | কেপটাউন | ২ জানুয়ারি ১৯৯৭ |
| ১২ | ১৪৩ | শ্রীলঙ্কা | কলম্বো (আরপিএস) | ২ আগস্ট ১৯৯৭ |
| ১৩ | ১৩৯ | শ্রীলঙ্কা | কলম্বো (এসএসসি) | ৯ আগস্ট ১৯৯৭ |
| ১৪ | ১৪৮ | শ্রীলঙ্কা | মুম্বাই (ওয়াংখেড়ে) | ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৭ |
| ১৫ | ১৫৫* | অস্ট্রেলিয়া | চেন্নাই | ৬ মার্চ ১৯৯৮ |
| ১৬ | ১৭৭ | অস্ট্রেলিয়া | বেঙ্গালুরু | ২৫ মার্চ ১৯৯৮ |
| ১৭ | ১১৩ | নিউজিল্যান্ড | ওয়েলিংটন | ২৬ ডিসেম্বর ১৯৯৮ |
| ১৮ | ১৩৬ | পাকিস্তান | চেন্নাই | ২৮ জানুয়ারি ১৯৯৯ |
| ১৯ | ১২৪* | শ্রীলঙ্কা | কলম্বো (এসএসসি) | ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ |
| ২০ | ১২৬* | নিউজিল্যান্ড | মোহালি | ১০ অক্টোবর ১৯৯৯ |
| ২১ | ২১৭ | নিউজিল্যান্ড | আহমেদাবাদ | ২৯ অক্টোবর ১৯৯৯ |
| ২২ | ১১৬ | অস্ট্রেলিয়া | মেলবোর্ন | ২৬ ডিসেম্বর ১৯৯৯ |
| ২৩ | ১২২ | জিম্বাবুয়ে | দিল্লি | ১৮ নভেম্বর ২০০০ |
| ২৪ | ২০১* | জিম্বাবুয়ে | নাগপুর | ২৫ নভেম্বর ২০০০ |
| ২৫ | ১২৬ | অস্ট্রেলিয়া | চেন্নাই | ১৮ মার্চ ২০০১ |
| ২৬ | ১৫৫ | দক্ষিণ আফ্রিকা | ব্লুমফন্টেইন | ৩ নভেম্বর ২০০১ |
| ২৭ | ১০৩ | ইংল্যান্ড | আহমেদাবাদ | ১১ ডিসেম্বর ২০০১ |
| ২৮ | ১৭৬ | জিম্বাবুয়ে | নাগপুর | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০২ |
| ২৯ | ১১৭ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | পোর্ট অব স্পেন | ১৯ এপ্রিল ২০০২ |
| ৩০ | ১৯৩ | ইংল্যান্ড | লিডস | ২২ আগস্ট ২০০২ |
| ৩১ | ১৭৬ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | কলকাতা (ইডেন গার্ডেন্স) | ৩০ অক্টোবর ২০০২ |
| ৩২ | ২৪১* | অস্ট্রেলিয়া | সিডনি | ২ জানুয়ারি ২০০৪ |
| ৩৩ | ১৯৪* | পাকিস্তান | মুলতান | ২৮ মার্চ ২০০৪ |
| ৩৪ | ২৪৮* | বাংলাদেশ | ঢাকা | ১০ ডিসেম্বর ২০০৪ |
| ৩৫ | ১০৯ | শ্রীলঙ্কা | দিল্লি | ১০ ডিসেম্বর ২০০৫ |
| ৩৬ | ১০১ | বাংলাদেশ | চট্টগ্রাম | ১৮ মে ২০০৭ |
| ৩৭ | ১২২* | বাংলাদেশ | মিরপুর | ২৫ মে ২০০৭ |
| ৩৮ | ১৫৪* | অস্ট্রেলিয়া | সিডনি | ২ জানুয়ারি ২০০৮ |
| ৩৯ | ১৫৩ | অস্ট্রেলিয়া | অ্যাডিলেড | ২৪ জানুয়ারি ২০০৮ |
| ৪০ | ১০৯ | অস্ট্রেলিয়া | নাগপুর | ৬ নভেম্বর ২০০৮ |
| ৪১ | ১০৩* | ইংল্যান্ড | চেন্নাই | ১১ ডিসেম্বর ২০০৮ |
| ৪২ | ১৬০ | নিউজিল্যান্ড | হ্যামিল্টন | ১৮ মার্চ ২০০৯ |
| ৪৩ | ১০০* | শ্রীলঙ্কা | আহমেদাবাদ | ১৬ নভেম্বর ২০০৯ |
| ৪৪ | ১০৫* | বাংলাদেশ | চট্টগ্রাম | ১৭ জানুয়ারি ২০১০ |
| ৪৫ | ১৪৩ | বাংলাদেশ | মিরপুর | ২৪ জানুয়ারি ২০১০ |
| ৪৬ | ১০০ | দক্ষিণ আফ্রিকা | নাগপুর | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ |
| ৪৭ | ১০৬ | দক্ষিণ আফ্রিকা | কলকাতা (ইডেন গার্ডেন্স) | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ |
| ৪৮ | ২০৩ | শ্রীলঙ্কা | কলম্বো (এসএসসি) | ২৬ জুলাই ২০১০ |
| ৪৯ | ২১৪ | অস্ট্রেলিয়া | বেঙ্গালুরু | ৯ অক্টোবর ২০১০ |
| ৫০ | ১১১* | দক্ষিণ আফ্রিকা | সেঞ্চুরিয়ন | ১৬ ডিসেম্বর ২০১০ |
| ৫১ | ১৪৬ | দক্ষিণ আফ্রিকা | কেপটাউন | ২ জানুয়ারি ২০১১ |
তারিখগুলো টেস্ট ম্যাচ শুরুর দিনের। * = অপরাজিত।
শচীন টেন্ডুলকারের ওয়ানডে সেঞ্চুরির তালিকা
| ক্রম | রান | প্রতিপক্ষ | মাঠ | তারিখ |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ১১০ | অস্ট্রেলিয়া | কলম্বো (আরপিএস) | ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ |
| ২ | ১১৫ | নিউজিল্যান্ড | ভদোদরা | ২৮ অক্টোবর ১৯৯৪ |
| ৩ | ১০৫ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | জয়পুর | ১১ নভেম্বর ১৯৯৪ |
| ৪ | ১১২* | শ্রীলঙ্কা | শারজাহ | ৯ এপ্রিল ১৯৯৫ |
| ৫ | ১২৭* | কেনিয়া | কটক | ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ |
| ৬ | ১৩৭ | শ্রীলঙ্কা | দিল্লি | ২ মার্চ ১৯৯৬ |
| ৭ | ১০০ | পাকিস্তান | সিঙ্গাপুর | ৫ এপ্রিল ১৯৯৬ |
| ৮ | ১১৮ | পাকিস্তান | শারজাহ | ১৫ এপ্রিল ১৯৯৬ |
| ৯ | ১১০ | শ্রীলঙ্কা | কলম্বো (আরপিএস) | ২৮ আগস্ট ১৯৯৬ |
| ১০ | ১১৪ | দক্ষিণ আফ্রিকা | মুম্বাই (ওয়াংখেড়ে) | ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৬ |
| ১১ | ১০৪ | জিম্বাবুয়ে | বেনোনি | ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ |
| ১২ | ১১৭ | নিউজিল্যান্ড | বেঙ্গালুরু | ১৪ মে ১৯৯৭ |
| ১৩ | ১০০ | অস্ট্রেলিয়া | কানপুর | ৭ এপ্রিল ১৯৯৮ |
| ১৪ | ১৪৩ | অস্ট্রেলিয়া | শারজাহ | ২২ এপ্রিল ১৯৯৮ |
| ১৫ | ১৩৪ | অস্ট্রেলিয়া | শারজাহ | ২৪ এপ্রিল ১৯৯৮ |
| ১৬ | ১০০* | কেনিয়া | কলকাতা (ইডেন গার্ডেন্স) | ৩১ মে ১৯৯৮ |
| ১৭ | ১২৮ | শ্রীলঙ্কা | কলম্বো (আরপিএস) | ৭ জুলাই ১৯৯৮ |
| ১৮ | ১২৭* | জিম্বাবুয়ে | বুলাওয়েও | ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ |
| ১৯ | ১৪১ | অস্ট্রেলিয়া | ঢাকা | ২৮ অক্টোবর ১৯৯৮ |
| ২০ | ১১৮* | জিম্বাবুয়ে | শারজাহ | ৮ নভেম্বর ১৯৯৮ |
| ২১ | ১২৪* | জিম্বাবুয়ে | শারজাহ | ১৩ নভেম্বর ১৯৯৮ |
| ২২ | ১৪০* | কেনিয়া | ব্রিস্টল | ২৩ মে ১৯৯৯ |
| ২৩ | ১২০ | শ্রীলঙ্কা | কলম্বো (এসএসসি) | ২৯ আগস্ট ১৯৯৯ |
| ২৪ | ১৮৬* | নিউজিল্যান্ড | হায়দরাবাদ | ৮ নভেম্বর ১৯৯৯ |
| ২৫ | ১২২ | দক্ষিণ আফ্রিকা | ভদোদরা | ১৭ মার্চ ২০০০ |
| ২৬ | ১০১ | শ্রীলঙ্কা | শারজাহ | ২০ অক্টোবর ২০০০ |
| ২৭ | ১৪৬ | জিম্বাবুয়ে | যোধপুর | ৮ ডিসেম্বর ২০০০ |
| ২৮ | ১৩৯ | অস্ট্রেলিয়া | ইন্দোর | ৩১ মার্চ ২০০১ |
| ২৯ | ১২২* | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | হারারে | ৪ জুলাই ২০০১ |
| ৩০ | ১০১ | দক্ষিণ আফ্রিকা | জোহানেসবার্গ | ৫ অক্টোবর ২০০১ |
| ৩১ | ১৪৬ | কেনিয়া | পার্ল | ২৪ অক্টোবর ২০০১ |
| ৩২ | ১০৫* | ইংল্যান্ড | চেস্টার-লি-স্ট্রিট | ৪ জুলাই ২০০২ |
| ৩৩ | ১১৩ | শ্রীলঙ্কা | ব্রিস্টল | ১১ জুলাই ২০০২ |
| ৩৪ | ১৫২ | নামিবিয়া | পিটারমারিৎসবার্গ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ |
| ৩৫ | ১০০ | অস্ট্রেলিয়া | গোয়ালিয়র | ২৬ অক্টোবর ২০০৩ |
| ৩৬ | ১০২ | নিউজিল্যান্ড | হায়দরাবাদ | ১৫ নভেম্বর ২০০৩ |
| ৩৭ | ১৪১ | পাকিস্তান | রাওয়ালপিন্ডি | ১৬ মার্চ ২০০৪ |
| ৩৮ | ১২৩ | পাকিস্তান | আহমেদাবাদ | ১২ এপ্রিল ২০০৫ |
| ৩৯ | ১০০ | পাকিস্তান | পেশোয়ার | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ |
| ৪০ | ১৪১* | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | কুয়ালালামপুর | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৬ |
| ৪১ | ১০০* | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ভদোদরা | ৩১ জানুয়ারি ২০০৭ |
| ৪২ | ১১৭* | অস্ট্রেলিয়া | সিডনি | ২ মার্চ ২০০৮ |
| ৪৩ | ১৬৩* | নিউজিল্যান্ড | ক্রাইস্টচার্চ | ৮ মার্চ ২০০৯ |
| ৪৪ | ১৩৮ | শ্রীলঙ্কা | কলম্বো (আরপিএস) | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ |
| ৪৫ | ১৭৫ | অস্ট্রেলিয়া | হায়দরাবাদ | ৫ নভেম্বর ২০০৯ |
| ৪৬ | ২০০* | দক্ষিণ আফ্রিকা | গোয়ালিয়র | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ |
| ৪৭ | ১২০ | ইংল্যান্ড | বেঙ্গালুরু | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ |
| ৪৮ | ১১১ | দক্ষিণ আফ্রিকা | নাগপুর | ১২ মার্চ ২০১১ |
| ৪৯ | ১১৪ | বাংলাদেশ | মিরপুর | ১৬ মার্চ ২০১২ |
বাংলাদেশের বিপক্ষে শচীনের সেঞ্চুরি
বাংলাদেশের বিপক্ষে শচীন টেস্টে ৫টি ও ওয়ানডেতে ১টি সেঞ্চুরি করেছেন, এবং সবগুলোই বাংলাদেশের মাটিতে।
- ২৪৮* (ঢাকা, ডিসেম্বর ২০০৪): টেস্ট ক্যারিয়ারে শচীনের সর্বোচ্চ ইনিংস এসেছিল বাংলাদেশের বিপক্ষেই।
- ১০১ (চট্টগ্রাম) ও ১২২* (মিরপুর), মে ২০০৭: এক সিরিজে টানা দুই টেস্টে সেঞ্চুরি।
- ১০৫* (চট্টগ্রাম) ও ১৪৩ (মিরপুর), জানুয়ারি ২০১০: আবারও দুই টেস্টে দুই সেঞ্চুরি।
- ১১৪ (মিরপুর, ১৬ মার্চ ২০১২): এশিয়া কাপের এই ম্যাচে শচীন তাঁর ১০০তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তবে ম্যাচটি জিতেছিল বাংলাদেশ।
শচীনের সবচেয়ে স্মরণীয় সেঞ্চুরি
টেস্টে
১১৪, পার্থ (১৯৯২): পার্থের পুরোনো ওয়াকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত ও বাউন্সি পিচগুলোর একটি। মাত্র ১৮ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের বিপক্ষে এখানে শচীনের ১১৪ রানকে আজও তাঁর সেরা টেস্ট ইনিংসগুলোর একটি ধরা হয়।
১৫৫*, চেন্নাই (১৯৯৮): প্রথম ইনিংসে ৭১ রানে পিছিয়ে ছিল ভারত, শেন ওয়ার্ন শচীনকে প্রথম ইনিংসে সস্তায় ফিরিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯১ বলে অপরাজিত ১৫৫ রান করেন শচীন, ভারত টেস্টটি জেতে ১৭৯ রানে।
১৩৬, চেন্নাই (১৯৯৯): পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের জন্য ২৭১ রান দরকার ছিল, ৮২ রানে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। পিঠের ব্যথা নিয়ে শচীন নয়ন মোঙ্গিয়ার সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৬ রান যোগ করেন। তিনি আউট হওয়ার সময় ভারতের দরকার ছিল মাত্র ১৭ রান, কিন্তু ভারত হারে ১২ রানে।
১৫৫, ব্লুমফন্টেইন (২০০১): প্রথম সেশনেই ভারতের ৪ উইকেট পড়ে যায়। অভিষিক্ত বীরেন্দ্র শেবাগের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ২২০ রানের জুটি গড়েন শচীন; শেবাগও অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেন।
১১১*, সেঞ্চুরিয়ন (২০১০): দক্ষিণ আফ্রিকা ৬২০/৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করার পর ডেল স্টেইন ও মরনে মরকেলের বিপক্ষে শচীনের অপরাজিত ১১১ রান। ভারত ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি, তবে স্টেইন-শচীনের সেই লড়াই আজও আলোচিত।
ওয়ানডেতে
২০০*, গোয়ালিয়র (২০১০): এর আগেও ডাবল সেঞ্চুরির কাছে গিয়েছিলেন শচীন (১৯৯৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮৬*, ২০০৯ সালে ১৬৩* ও ১৭৫)। গোয়ালিয়রে ১৪৭ বলের ইনিংসে ২৫টি চার ও ৩টি ছক্কা মেরে শেষ ওভারে তিনি ২০০ পূর্ণ করেন।
১৪৩ ও ১৩৪, শারজাহ (১৯৯৮): ‘ডেজার্ট স্টর্ম’ নামে পরিচিত এই দুই ইনিংস। ২২ এপ্রিল বালুঝড়ের পর ১৩১ বলে ১৪৩ রান করে ভারতকে ফাইনালে তোলেন। দুই দিন পর, নিজের ২৫তম জন্মদিনে, ফাইনালে ১৩১ বলে ১৩৪ রান করে ভারতকে শিরোপা এনে দেন।
১৭৫, হায়দরাবাদ (২০০৯): অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৩৫১ রানের লক্ষ্যে ১৪১ বলে ১৭৫ রান। তিনি আউট হওয়ার সময় ১৭ বলে ১৮ রান দরকার ছিল, তবু ভারত হারে ৩ রানে।
এক নজরে শচীনের ক্যারিয়ার
| সংস্করণ | ম্যাচ | রান | গড় | স্ট্রাইক রেট | সেঞ্চুরি | ফিফটি | সর্বোচ্চ |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| টেস্ট | ২০০ | ১৫৯২১ | ৫৩.৭৮ | – | ৫১ | ৬৮ | ২৪৮* |
| ওয়ানডে | ৪৬৩ | ১৮৪২৬ | ৪৪.৮৩ | ৮৬.২৩ | ৪৯ | ৯৬ | ২০০* |
| টি-টোয়েন্টি | ১ | ১০ | ১০.০০ | ৮৩.৩৩ | ০ | ০ | ১০ |
শচীন টেন্ডুলকারের পথচলা
শচীন টেন্ডুলকারের জন্ম ১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল, মুম্বাইয়ে। কোচ রমাকান্ত আচরেকরের হাতে তাঁর প্রতিভা বিকশিত হয়। ১৯৮৮ সালে হ্যারিস শিল্ডে বিনোদ কাম্বলির সঙ্গে ৬৬৪ রানের জুটি গড়ে প্রথম আলোচনায় আসেন। ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে মাত্র ১৬ বছর বয়সে করাচিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তাঁর, আর ১৯৯০ সালের আগস্টে ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসে প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি।
২০১১ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন তিনি, সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেন ৮৫ রান। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে শচীনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ হয়। ২০১৩ সালের নভেম্বরে নিজের ২০০তম টেস্ট খেলে অবসর নেন তিনি।
ইংরেজিতে পড়ুন: Sachin Tendulkar centuries in international cricket
